Job Information

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স সুযোগ, যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গাইড 

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স গ্রামে বসেও ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চান, কিন্তু কোর্সের টাকা নেই? সুখবর হলো 

বাংলাদেশ সরকার এখন প্রতিটি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের ব্যবস্থা করেছে। ঢাকায় না গিয়ে, নিজের এলাকায় বসেই বিশ্বমানের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করার এই সুযোগ এখন আপনার দরজার কাছেই।

কেন সরকার প্রতি উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিং কোর্স চালু করেছে? 

বাংলাদেশে বর্তমানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ গ্রামাঞ্চলে বাস করেন। শহরের বাইরে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সীমিত থাকায় তরুণরা বেকারত্বের চক্রে আটকে যাচ্ছিলেন। স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ রূপকল্পের আওতায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে  ডিজিটাল দক্ষতা শুধু শহরের মানুষের জন্য নয়, দেশের প্রতিটি কোণের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

এই লক্ষ্যেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (ICT Division), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে মোট ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এই কোর্স চালু করা হচ্ছে। অর্থাৎ রাজশাহীর গোদাগাড়ী হোক বা সিলেটের জৈন্তাপুর এখন সব জায়গার তরুণরাই এই সুযোগ পাচ্ছেন।

উপজেলায় ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ 

উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কোর্স পরিচালিত হচ্ছে:

১. লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (LEDP) 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এই প্রজেক্টটি উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার সবচেয়ে বড় সরকারি কার্যক্রম। প্রতিটি ব্যাচে ২৫-৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিতে পারেন এবং প্রশিক্ষণের মেয়াদ সাধারণত ৩-৬ মাস।

LEDP কোর্সে যা শেখানো হয়:

  • ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস পরিচিতি (Fiverr, Upwork, Freelancer)
  • গ্রাফিক ডিজাইনের মূল ধারণা
  • ওয়েব ডিজাইনের প্রাথমিক বিষয়
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • ডেটা এন্ট্রি ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
  • পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার (Payoneer, Wise)

২. উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় 

প্রতিটি উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয় রয়েছে। এই কার্যালয়গুলোর মাধ্যমেও কম্পিউটার ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

যোগাযোগ করুন: আপনার নিকটস্থ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সরাসরি গিয়ে খোঁজ নিন অথবা dyd.gov.bd ওয়েবসাইটে যোগাযোগ তথ্য পাবেন।

৩. ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC) ও উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং সেন্টার 

প্রতিটি ইউনিয়নে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টার থেকে উপজেলা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক উপজেলায় সরাসরি UDC-তেই বেসিক কোর্স করানো হয়।

৪. উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিস 

নারী উদ্যোক্তা ও গৃহিণীদের জন্য মহিলা বিষয়ক অফিসের মাধ্যমে বিশেষ ফ্রিল্যান্সিং কোর্স পরিচালিত হয়। এই কোর্সে ঘরে বসে কাজ করার উপযোগী স্কিলগুলো প্রাধান্য দেওয়া হয়।

উপজেলা ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের বিষয়বস্তু ও মডিউল 

উপজেলায় পরিচালিত বিনামূল্যের ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো শেখানো হয়:

মডিউল ১  ফ্রিল্যান্সিং পরিচিতি (১ম সপ্তাহ)

  • ফ্রিল্যান্সিং কী ও কীভাবে কাজ করে
  • বিশ্বের শীর্ষ মার্কেটপ্লেস পরিচিতি
  • কোন স্কিলে কত আয় সম্ভব
  • সফল বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের গল্প ও অনুপ্রেরণা

২  কম্পিউটার বেসিক ও ইন্টারনেট ব্যবহার (২য় সপ্তাহ)

  • MS Word, MS Excel, MS PowerPoint
  • ই-মেইল লেখা ও পেশাদার যোগাযোগ
  • গুগল ড্রাইভ ও ক্লাউড স্টোরেজ
  • ভিডিও কনফারেন্সিং (Zoom, Google Meet)

৩  স্কিল ডেভেলপমেন্ট (৩য়-৮ম সপ্তাহ)

প্রশিক্ষণার্থীর আগ্রহ ও সুবিধামতো নিচের যেকোনো একটি ট্র্যাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ:

ট্র্যাক ও বিষয়বস্তু

  • গ্রাফিক ডিজাইন ট্র্যাক
    Canva, Adobe Photoshop বেসিক, লোগো ডিজাইন
  • ডিজিটাল মার্কেটিং ট্র্যাক
    Facebook Ads, SEO বেসিক, কন্টেন্ট মার্কেটিং
  • ডেটা এন্ট্রি ট্র্যাক
    স্প্রেডশিট, ডেটা সংগ্রহ, টাইপিং দক্ষতা
  • কন্টেন্ট রাইটিং ট্র্যাক
    আর্টিকেল লেখা, SEO কন্টেন্ট, ব্লগিং
  • ওয়েব ডিজাইন ট্র্যাক
    HTML, CSS বেসিক, WordPress

মডিউল ৪  মার্কেটপ্লেস প্র্যাকটিক্যাল (৯ম-১২তম সপ্তাহ)

  • Fiverr প্রোফাইল ও গিগ তৈরি করা
  • Upwork প্রোফাইল সেটআপ
  • প্রপোজাল ও কভার লেটার লেখা
  • ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগের কৌশল
  • পেমেন্ট গ্রহণ ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া

উপজেলা ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের যোগ্যতা ও শর্তাবলি 

বয়সসীমা:

  • সাধারণত ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা আবেদন করতে পারবেন
  • নারীদের ক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রোগ্রামে বয়সসীমা শিথিল থাকে

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

  • ন্যূনতম এসএসসি বা সমমান পাস
  • কিছু কোর্সে অষ্টম শ্রেণি পাসেও সুযোগ আছে

অন্যান্য শর্ত:

  • আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
  • মৌলিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকলে ভালো, না থাকলেও অনেক কোর্সে সুযোগ আছে
  • নিজস্ব স্মার্টফোন বা কম্পিউটার না থাকলেও আবেদন করা যাবে

অগ্রাধিকার পাবেন যারা:

  • বেকার তরুণ-তরুণী
  • দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্য
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
  • মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি
  • নারী প্রার্থী (অনেক প্রোগ্রামে ৩০-৫০% আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত)

কীভাবে আবেদন করবেন  ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া 

অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে:

ledp.ictd.gov.bd অথবা dyd.gov.bd ওয়েবসাইটে যান

আপনার NID নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

আবেদন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন  নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন ট্র্যাকে পড়তে চান

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন

 আবেদন সাবমিট করুন এবং Confirmation SMS বা ইমেইলের জন্য অপেক্ষা করুন

সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে:

আপনার উপজেলার যুব উন্নয়ন কার্যালয়, উপজেলা আইসিটি অফিস বা UDC-তে সরাসরি গিয়ে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন। পূরণ করে জমা দিন।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 

কাগজপত্র ও বিবরণ

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
    ফটোকপি ও অনলাইন কপি
  • শিক্ষাগত সনদ
    সর্বশেষ পাসের সার্টিফিকেটের কপি
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
    ২ কপি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
  • স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ
    ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সনদ
  • মোবাইল নম্বর
    সক্রিয় বাংলাদেশি নম্বর

মনে রাখুন: কাগজপত্রের তালিকা প্রোগ্রামভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদনের আগে অফিসিয়াল সার্কুলার দেখে নিন।

কোন কোন উপজেলায় এই কোর্স চলছে? 

বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের সব জেলায় পর্যায়ক্রমে এই কোর্স চালু হচ্ছে। বর্তমানে যেসব অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চলছে:

ঢাকা বিভাগ:

মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ বিভাগের সকল জেলার উপজেলাগুলোতে।

চট্টগ্রাম বিভাগ:

কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালীসহ সব জেলার উপজেলায়।

রাজশাহী বিভাগ:

রাজশাহী সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের উপজেলাগুলোতে।

খুলনা বিভাগ:

যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, নড়াইলসহ সব জেলার উপজেলায়।

বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগেও পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় কার্যক্রম চলছে।

আপনার উপজেলায় কোর্স চলছে কিনা জানতে: সরাসরি উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে ফোন করুন অথবা ledp.ictd.gov.bd ওয়েবসাইটের জেলা/উপজেলা ফিল্টার ব্যবহার করুন।

উপজেলায় ফ্রি কোর্সের সুবিধাসমূহ 

শুধু বিনামূল্যে কোর্সই নয়  এই প্রোগ্রামে আরও অনেক সুবিধা পাওয়া যায়:

আর্থিক সুবিধা:

  • কোর্স ফি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
  • অনেক প্রোগ্রামে কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহারের সুবিধা বিনামূল্যে
  • কোনো কোনো প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণ ভাতাও দেওয়া হয়

একাডেমিক সুবিধা:

  • সরকারি সনদপত্র প্রদান
  • জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) স্বীকৃত সার্টিফিকেট
  • পরবর্তীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণে ভর্তির অগ্রাধিকার

অতিরিক্ত সুবিধা:

  • সফল প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যুব ঋণের সুযোগ
  • সরকারি যুব ক্লাবের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং সুযোগ
  • ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পর মেন্টরশিপ সাপোর্ট
  • highest paid jobs

উপজেলার ফ্রি কোর্সের পর কীভাবে আয় শুরু করবেন 

কোর্স সম্পন্ন করার পর আয় শুরু করতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:

পদক্ষেপ ১  পোর্টফোলিও তৈরি করুন

কোর্স চলাকালীনই আপনার কাজের নমুনা (স্যাম্পল) তৈরি করুন। গ্রাফিক ডিজাইনার হলে ১০-১৫টি ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটার হলে ৫-১০টি লেখা তৈরি রাখুন।

পদক্ষেপ ২  Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলুন

ফ্রিল্যান্সিং আয় দেশে আনার জন্য Payoneer সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। বাংলাদেশি NID দিয়ে সহজেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং যেকোনো ব্যাংকে টাকা তোলা যায়।

পদক্ষেপ ৩  Fiverr দিয়ে শুরু করুন

নতুনদের জন্য Fiverr সবচেয়ে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি নিজেই আপনার সার্ভিস অফার করেন এবং ক্লায়েন্টরা আপনাকে খুঁজে নেন।

Fiverr গিগ তৈরির টিপস:

  • পেশাদার প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করুন
  • গিগের টাইটেলে কীওয়ার্ড রাখুন
  • ৩টি প্যাকেজ অফার করুন (Basic, Standard, Premium)
  • গিগ ইমেজ আকর্ষণীয় করুন
  • প্রথম দিকে দ্রুত ডেলিভারি দিন
  • এ আই চাকরি পেতে যেসব দক্ষতা লাগবেই

পদক্ষেপ ৪  স্থানীয় ক্লায়েন্ট দিয়ে শুরু করুন

আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে শুরুতে কঠিন হলে আপনার এলাকার ছোট ব্যবসায়ী বা দোকানদারদের জন্য কাজ করুন। এতে অভিজ্ঞতা ও রিভিউ দুটোই পাবেন।

উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করে সফলতার গল্প 

সারা বাংলাদেশে হাজার হাজার তরুণ উপজেলা পর্যায়ের ফ্রি কোর্স করে আজ স্বাবলম্বী। কিছু সাফল্যের উদাহরণ:

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা: একজন কৃষক পরিবারের ছেলে LEDP-র ফ্রি কোর্স করে গ্রাফিক ডিজাইনে দক্ষতা অর্জন করেন। আজ তিনি Fiverr-এ কাজ করে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করছেন।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা: এক গৃহিণী মহিলা বিষয়ক অফিসের ফ্রি কোর্সে ডেটা এন্ট্রি শিখে ঘরে বসেই মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করছেন।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা: যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের কোর্সে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে একজন তরুণ এখন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ফেসবুক পেজ ম্যানেজ করে মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করছেন।

এই গল্পগুলো প্রমাণ করে  উপজেলার ফ্রি কোর্স কাজে লাগে, যদি সত্যিকারের ইচ্ছাশক্তি থাকে।

উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান 

উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে এবং সেগুলোর সমাধানও আছে:

চ্যালেঞ্জ ১  ইন্টারনেট সংযোগ সমস্যা

সমাধান: মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন। গ্রামীণফোন, রবি বা টেলিটকের বান্ডেল প্যাকেজ কম খরচে ভালো ইন্টারনেট দেয়। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারেও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।

চ্যালেঞ্জ ২  কম্পিউটার না থাকা

সমাধান: কোর্স চলাকালীন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ল্যাব ব্যবহার করুন। আয় শুরু হলে কিস্তিতে ল্যাপটপ কেনার পরিকল্পনা করুন। আপাতত স্মার্টফোন দিয়েও ডেটা এন্ট্রি বা কন্টেন্ট রাইটিং শুরু করা যায়।

চ্যালেঞ্জ ৩  ইংরেজিতে দুর্বলতা

সমাধান: Google Translate ব্যবহার করুন এবং ধীরে ধীরে ইংরেজি শেখার চেষ্টা করুন। প্রথমে বাংলাদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করুন অথবা যেসব কাজে কম ইংরেজি লাগে সেগুলো বেছে নিন।

চ্যালেঞ্জ ৪  পরিবারের অসম্মতি বা সামাজিক বাধা

সমাধান: পরিবারকে সফল ফ্রিল্যান্সারদের গল্প শোনান। প্রথম পেমেন্ট পেলে পরিবারের সামনে উপস্থাপন করুন। কমিউনিটি গ্রুপ ও ট্রেনারের সাহায্য নিন।

বাংলাদেশে চাকরি খোজার সাইট

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স উপজেলায় নতুন ব্যাচের আপডেট কীভাবে পাবেন? 

নতুন ব্যাচের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মিস না করতে:

  • ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখুন: ledp.ictd.gov.bd এবং dyd.gov.bd
  • ফেসবুক পেজ ফলো করুন: “ICT Division Bangladesh” এবং “Department of Youth Development Bangladesh”
  • স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ রাখুন: উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে মাঝেমধ্যে খোঁজ নিন
  • কমিউনিটি গ্রুপে থাকুন: জেলা বা উপজেলা ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন
  • স্থানীয় পত্রিকা পড়ুন: অনেক সময় স্থানীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়
  • পড়াশোনা আর চাকরির প্রস্তুতির ফাঁকে ট্রেন্ডি ফ্যাশন আর লাইফস্টাইল টিপসে নিজেকে আপডেট রাখতে ভিজিট করুন Sajekbd।

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স উপজেলা কোর্সের পাশাপাশি নিজে যা করবেন 

শুধু কোর্সের উপর নির্ভর না করে পাশাপাশি নিজেও শিখতে থাকুন:

ইউটিউব ব্যবহার করুন: বাংলায় ফ্রিল্যান্সিং শেখার শত শত ফ্রি ভিডিও আছে। প্রতিদিন ১ ঘণ্টা ইউটিউবে শিখুন।

গুগল সার্টিফিকেশন করুন: Google Digital Garage-এর ফ্রি কোর্স করে সার্টিফিকেট নিন। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

প্র্যাকটিস প্রজেক্ট করুন: শেখার সাথে সাথে নিজের জন্য ছোট ছোট প্রজেক্ট করুন। পোর্টফোলিও সমৃদ্ধ করুন।

অনলাইন কমিউনিটিতে যোগ দিন: ফেসবুকের বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার গ্রুপগুলোতে সক্রিয় থাকুন। অন্যদের প্রশ্ন ও উত্তর থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আপডেট সবার আগে পেতে আজই ভিজিট করুন aijobsbd.com। আপনার ক্যারিয়ারের সঠিক দিকনির্দেশনা এক প্ল্যাটফর্মে!

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ (FAQ) 

প্রশ্ন: আমার উপজেলায় কি ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং কোর্স আছে?
উত্তর: বাংলাদেশের প্রায় সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে কোর্স চালু হচ্ছে। আপনার উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে বা ফোন করে জানুন। অথবা dyd.gov.bd ও ledp.ictd.gov.bd দেখুন।

প্রশ্ন: কোর্সের সময়কাল কত?
উত্তর: প্রোগ্রামভেদে ১ মাস থেকে ৬ মাস পর্যন্ত হয়। সাধারণত বেসিক কোর্স ১-২ মাসের এবং অ্যাডভান্সড কোর্স ৩-৬ মাসের হয়।

প্রশ্ন: কোর্স শেষে কি সার্টিফিকেট পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। LEDP ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোর্সে সরকারি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। NSDA স্বীকৃত এই সার্টিফিকেট চাকরির ক্ষেত্রেও সহায়ক।

প্রশ্ন: কোর্সে কি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দেওয়া হয়?
উত্তর: সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে কম্পিউটার দেওয়া হয় না। তবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহারের সুযোগ থাকে।

প্রশ্ন: গৃহিণীরা কি এই কোর্স করতে পারবেন?
উত্তর: অবশ্যই। মহিলা বিষয়ক অফিসের বিশেষ কার্যক্রমে গৃহিণীদের জন্য আলাদা সুযোগ আছে। বাড়িতে বসে কাজ করার উপযোগী স্কিল শেখানো হয়।

প্রশ্ন: একবার ভর্তি না হতে পারলে পরবর্তী সুযোগ পাবো কি?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রতি ব্যাচে আসন সীমিত থাকায় সবাই সুযোগ না-ও পেতে পারেন। তবে নিয়মিত আবেদন করতে থাকলে পরবর্তী ব্যাচে সুযোগ পাবেন। ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখুন।

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আপডেট সবার আগে পেতে আজই ভিজিট করুন aijobsbd.com। আপনার ক্যারিয়ারের সঠিক দিকনির্দেশনা এক প্ল্যাটফর্মে!

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স শেষ কথা

প্রতি উপজেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স বাংলাদেশের গ্রামীণ তরুণদের জন্য এক অভূতপূর্ব সুযোগ। এই সুযোগ আগে ছিল না  শুধু ঢাকা বা বড় শহরের মানুষরাই ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে পারতেন। এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে শুরু করে বান্দরবানের লামা পর্যন্ত  সব উপজেলার তরুণরাই এই সুযোগ পাচ্ছেন।

আজই আপনার উপজেলার যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। খোঁজ নিন কখন নতুন ব্যাচ শুরু হবে। সুযোগ পেলে একদিনও দেরি করবেন না। কারণ দক্ষতাই হলো আসল সম্পদ আর এই সম্পদ এখন আপনার কাছেই আনা হচ্ছে, বিনামূল্যে। 

আপনার চাকরি প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ারকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে আমাদের সাইটের এই প্রয়োজনীয় ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন:

একটি মন্তব্য লিখুন