Job Information

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ? ২০২৬ সালের সর্বশেষ অবস্থা ও প্রবাসীদের করণীয়

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ? ২০২৬ সালের সর্বশেষ অবস্থা ও প্রবাসীদের করণীয়

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ? ২০২৬ সালের সর্বশেষ অবস্থা ও প্রবাসীদের করণীয়

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ ফেসবুক, ইউটিউব আর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রায়ই একটা খবর ঘুরে বেড়ায়: “সৌদি ভিসা বন্ধ হয়ে গেছে!” 

আত্মীয় দেশ থেকে সৌদি যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়ে অপেক্ষা করছেন। আবার কেউ নিজেই উমরাহর পরিকল্পনা করছেন।

সত্যি বলতে, উত্তরটা শুধু “হ্যাঁ” বা “না” দিয়ে দেওয়া যায় না। সৌদি আরব সব ভিসা একসাথে বন্ধ করেনি। 

বরং গত দেড় বছরে নির্দিষ্ট কিছু ভিসার ধরনে, নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য বিধিনিষেধ এসেছে। 

কিছু নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে, আবার নতুন কড়াকড়িও যুক্ত হয়েছে।

এই লেখায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো চিত্রটা সহজ ভাষায় সাজানো হলো। আমেরিকা প্রবাসীদের জন্য আলাদা নির্দেশনাও রয়েছে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: সৌদি আরবের ভিসা কি সত্যিই বন্ধ?

সংক্ষেপে, না। সৌদি আরবের ভিসা পুরোপুরি বন্ধ নয়।

 তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে কয়েকটি ভিসা ক্যাটাগরিতে বাস্তব সীমাবদ্ধতা ও কড়াকড়ি চলছে। 

নিচের সারণিতে একনজরে দেখুন।

ভিসার ধরন,বর্তমান অবস্থা ও মন্তব্য

  • এক বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা (বাংলাদেশি পাসপোর্ট)
    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে স্থগিত
    একবার প্রবেশের ভিসা পাওয়া যায়
  • শ্রমিক ওয়ার্ক ভিসা
    বন্ধ নয়, তবে যাচাই ও কড়াকড়ি বেড়েছে
    ২০২৬ সালে ভুয়া চাহিদাপত্রে ভিসা বাতিলের খবর
  • উমরাহ ভিসা
    মৌসুমভিত্তিক নিয়ম
    হজ মৌসুমে প্রবেশের শেষ দিন নির্ধারিত থাকে
  • ই-ভিসা (মার্কিন, যুক্তরাজ্য বা শেনজেন ভিসাধারী ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য)
    চালু আছে
    যোগ্যতা অবশ্যই যাচাই করতে হবে
  • মার্কিন পাসপোর্টধারীদের ভিসা
    ই-ভিসা চালু
    মার্কিন সরকারের সতর্কতা লেভেল ৩

মনে রাখবেন, এই সারণি নীতির একটি সাধারণ চিত্র। সৌদি কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় নিয়ম বদলাতে পারে।

২০২৫ থেকে ২০২৬: কোন সময়ে কী ঘটেছে

সৌদি ভিসা নিয়ে বিভ্রান্তির বড় কারণ হলো, একাধিক আলাদা সিদ্ধান্ত একসাথে গুলিয়ে যায়। সময়ের ক্রমে ঘটনাগুলো সাজালে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

সময় ও ঘটনা

  • ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের নাগরিকদের জন্য এক বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা (ব্যবসা, পর্যটন, পারিবারিক ভ্রমণ) স্থগিত
  • এপ্রিল থেকে জুন ২০২৫
    হজ মৌসুম সামনে রেখে ওই ১৪ দেশের নাগরিকদের জন্য কিছু স্বল্পমেয়াদি ভিসায় অস্থায়ী প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা
  • মে ২০২৫
    ব্লক ওয়ার্ক ভিসা কোটা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত
  • জুলাই ২০২৫
    হজ মৌসুম শেষে বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ওয়ার্ক ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার প্রতিবেদন
  • ফেব্রুয়ারি ও মার্চ ২০২৬
    ভুয়া চাহিদাপত্র ধরা পড়ায় ভিসা ইস্যুতে কড়াকড়ি, সৌদিগামী কর্মী পাঠানো কমে যায়
  • মার্চ ২০২৬
    মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের ১৮ এপ্রিলের আগে জরিমানা ছাড়া দেশ ছাড়ার সুযোগ
  • এপ্রিল ২০২৬
    হজ মৌসুমের কারণে উমরাহ ভিসায় প্রবেশের শেষ দিন ৩ এপ্রিল
  • আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬
    মার্কিন সরকারের লেভেল ৩ ভ্রমণ সতর্কতা বহাল

লক্ষ করুন, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধগুলো মূলত হজ ও অননুমোদিত হজযাত্রী ঠেকানোর সঙ্গে জড়িত ছিল। 

আর ২০২৬ সালের কড়াকড়ির মূল কারণ ভুয়া চাকরির চাহিদাপত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা স্থগিত: কারা প্রভাবিত

২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সৌদি আরব ১৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য এক বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে। 

দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, জর্ডান, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সুদান, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেন।

এই স্থগিতাদেশ ব্যবসা, পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক, শ্রমিক, হজ ও উমরাহ ভিসায় এর প্রভাব পড়েনি। 

এসব দেশের নাগরিকরা এখনও একবার প্রবেশের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন, যার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ দিন।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অনেকে দীর্ঘমেয়াদি ভিজিট ভিসা নিয়ে ঢুকে অনুমোদন ছাড়া হজে অংশ নিয়েছেন।

 ২০২৪ সালে অতিরিক্ত ভিড় ও তীব্র গরমে ১,২০০-র বেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর পর এ নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর হয়।

একটি বিষয় আমেরিকা প্রবাসীদের জানা জরুরি। 

এই বিধিনিষেধ পাসপোর্টের নাগরিকত্ব ধরে প্রযোজ্য। তাই মার্কিন পাসপোর্টধারীরা এই ১৪ দেশের তালিকায় পড়েন না।

ওয়ার্ক ভিসা: ২০২৬ সালে কড়াকড়ি কেন বাড়ল

২০২৬ সালের শুরুতে সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয় কর্মী নিয়োগের ভিসা ইস্যুতে বাড়তি যাচাই চালু করে।

 দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকৃত শ্রমিকের প্রয়োজন ছাড়াই নিয়োগকর্তারা ভুয়া চাহিদাপত্র জমা দিচ্ছেন, 

এমন অভিযোগ ওঠার পর হাজার হাজার ভিসা আবেদন বাতিল হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সৌদিগামী কর্মী পাঠানো জানুয়ারির তুলনায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। এতে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে ৩২ শতাংশ।

 এই সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মীদের ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে।

রিক্রুটিং এজেন্সির একজন সাবেক নেতা দাবি করেছেন, ভিসা ইস্যু আগের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। 

এটি তার নিজের বক্তব্য, সরকারি পরিসংখ্যান নয়। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি অনলাইন সিস্টেমে দেখা যাওয়া কিছু ভিসা পরে হারিয়ে গেছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে বাধা তৈরি হচ্ছে, এমন ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন।

এই প্রতিবেদনের পর সৌদি সরকার বাংলাদেশি শ্রমিক ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা খুঁজে পাইনি। 

অর্থাৎ পরিস্থিতিটি নিষেধাজ্ঞার চেয়ে কঠোর যাচাইয়ের কাছাকাছি।

দক্ষতা যাচাই কর্মসূচি: শ্রমিক ভিসার নতুন বাস্তবতা

ভিসা প্রক্রিয়ার আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো সৌদি আরবের দক্ষতা যাচাই কর্মসূচি (Skill Verification Programme)। 

এটি ২০২৩ সালের মাঝামাঝি প্রথমে পাঁচটি খাতে শুরু হয়েছিল, যেমন প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ ও ওয়েল্ডিং।

দুই বছরে এটি ৭০-এর বেশি পেশায় বিস্তৃত হয়েছে। খুব শিগগির ৭৩টি পেশা এর আওতায় আসার কথা রয়েছে।

এই ব্যবস্থায় কর্মীকে তাকামুল (Takamol) সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হয়, অনলাইনে পরীক্ষা দিতে হয় এবং পাঁচ বছর মেয়াদি একটি দক্ষতা সনদ নিতে হয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য সুযোগ কমতে পারে, আবার দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বাড়তে পারে।

সৌদি আরব কেন এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে

সংক্ষেপে চারটি কারণ বারবার সামনে এসেছে।

হজ মৌসুমের ভিড় ও অবৈধ হজযাত্রী। ভিজিট ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বারবার সাময়িক বিধিনিষেধ এসেছে।

ভুয়া চাকরির চাহিদাপত্র। কর্মীরা সৌদিতে গিয়ে দেখেন প্রতিশ্রুত কাজ নেই, কিংবা একেবারে ভিন্ন কাজ দেওয়া হচ্ছে। 

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অভিবাসী কর্মীদের অভিযোগের ৯০ শতাংশের বেশি সৌদি আরবের চাকরি নিয়ে।

দক্ষ শ্রমিকমুখী নীতি। দক্ষতা যাচাই কর্মসূচির মাধ্যমে সৌদি আরব কম দক্ষ কর্মী নিয়োগ কমাতে চাইছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ইরান-সংশ্লিষ্ট সংঘাত ২০২৬ সালে সৌদি আরবের ভ্রমণ ও শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: ভিসা থাকলেও ভ্রমণের ঝুঁকি

ভিসা থাকা আর নিরাপদে ভ্রমণ করা এক বিষয় নয়। 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবের জন্য লেভেল ৩ (ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন) সতর্কতা বহাল রেখেছে। 

এর কারণ হিসেবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাস, এক্সিট ব্যান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত স্থানীয় আইনের কথা বলা হয়েছে।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু রয়েছে, তবে সময়ে সময়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটেছে। 

২০২৬ সালের মার্চে মার্কিন সরকার সৌদি আরবে কর্মরত জরুরি নয় এমন কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশও দিয়েছিল।

সৌদি কর্তৃপক্ষও মার্চ ২০২৬-এ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। 

২৫ ফেব্রুয়ারি যাদের ভিজিট, উমরাহ বা ফাইনাল এক্সিট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা ১৮ এপ্রিলের আগে কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশ ছাড়তে পারবেন বলে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়।

আমেরিকা প্রবাসীদের জন্য: সৌদি ভিসার বাস্তব হিসাব

আমেরিকায় থাকা বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি একরকম নয়। 

তাই নিজের অবস্থান অনুযায়ী নিচের নির্দেশনা দেখুন।

মার্কিন নাগরিক (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত): মার্কিন নাগরিকরা সৌদি ই-ভিসার যোগ্য। 

এই ভিসায় পর্যটন, আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা ও উমরাহ করা যায়। ১৪ দেশের মাল্টিপল-এন্ট্রি স্থগিতাদেশ আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী, গ্রিন কার্ড বা মার্কিন ভিসা আছে: সৌদি নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন, যুক্তরাজ্য বা শেনজেন ভিসাধারী এবং এসব অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দারা সাধারণত ই-ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার যোগ্য হন। 

কিছু সূত্র বলছে, ভিসাটি অন্তত একবার ব্যবহার করা থাকতে হবে। তাই আবেদনের আগে সৌদি সরকারের অফিসিয়াল ই-ভিসা প্ল্যাটফর্মে (ksavisa.sa) নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন।

ই-ভিসা দিয়ে কাজ নয়: ই-ভিসা কেবল পর্যটন, পারিবারিক সাক্ষাৎ ও উমরাহর জন্য। 

এই ভিসায় কোনো ধরনের বেতনভুক্ত কাজ করা নিষিদ্ধ। কেউ ই-ভিসায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখালে সেটি প্রতারণা।

উমরাহর ক্ষেত্রে: ই-ভিসাধারীরা আলাদা উমরাহ ভিসা ছাড়াই উমরাহ করতে পারেন।

 যারা ই-ভিসার যোগ্য নন, তাদের অনুমোদিত এজেন্ট বা সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে উমরাহ ভিসা নিতে হয়। 

উমরাহর পারমিটের জন্য নুসুক (Nusuk) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনও করতে হয়।

ভ্রমণের আগে যা করবেন:

  • মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের travel.state.gov ওয়েবসাইটে সৌদি আরবের সর্বশেষ সতর্কতা দেখুন।
  • স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে (STEP) নাম নিবন্ধন করুন।
  • ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স নিন, কারণ মার্কিন দপ্তর নিজেই তা করার পরামর্শ দেয়।
  • সম্ভব হলে ফেরতযোগ্য বা পরিবর্তনযোগ্য টিকিট কিনুন।
  • উড়োজাহাজ সংস্থার সাম্প্রতিক নোটিশ ও ফ্লাইট বিঘ্নের খবর দেখে নিন।

দেশে থাকা স্বজন সৌদি ওয়ার্ক ভিসায় যেতে চাইলে যা যাচাই করবেন

আমেরিকা থেকে অনেকেই দেশে থাকা ভাই, ভাগ্নে বা প্রতিবেশীর সৌদি যাত্রায় আর্থিক সহায়তা করেন। এখন এই সহায়তার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া আরও জরুরি।

  • বিএমইটি নিবন্ধন: কর্মীর বিএমইটি নিবন্ধন ও স্মার্ট কার্ড থাকতে হবে।
  • লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি: এজেন্সির লাইসেন্স বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী যাচাই করুন।
  • চাহিদাপত্র ও পদের নাম: ভিসায় উল্লিখিত পদ প্রতিশ্রুত কাজের সঙ্গে মিলছে কিনা দেখুন। ক্লিনার বা হেল্পার ভিসায় ভিন্ন কাজের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনেকে বিপদে পড়েন।
  • স্বাস্থ্য পরীক্ষা: গামকা (GAMCA) অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে মেডিকেল পরীক্ষা করাতে হয়।
  • দক্ষতা সনদ: কাজটি দক্ষতা যাচাই কর্মসূচির আওতাধীন কিনা জেনে নিন।
  • খরচের হিসাব: সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ১,৬৫,০০০ টাকা। অথচ প্রতিবেদন অনুযায়ী কর্মীরা প্রায়ই ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দেন। এত বেশি টাকা চাইলে প্রশ্ন করুন।
  • রসিদ সংরক্ষণ: প্রতিটি টাকার লেনদেনের রসিদ ও লিখিত চুক্তি রাখুন।

ভিসা প্রতারণা ও গুজব চেনার উপায়

ভিসা নীতি অনিশ্চিত হলে দালালচক্র সবচেয়ে বেশি সুযোগ নেয়। কয়েকটি সতর্কসংকেত মনে রাখুন।

“১০০ ভাগ নিশ্চিত ভিসা”, “স্পট ভিসা” কিংবা “দ্রুততম সময়ে ফ্লাইট” ধরনের প্রতিশ্রুতি থেকে সাবধান থাকুন। যাচাই ছাড়া সম্পূর্ণ টাকা এককালীন দেবেন না।

 মনে রাখবেন, সৌদি অনলাইন সিস্টেমে দেখা কিছু ভিসা পরে হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে, তাই শুধু একটি স্ক্রিনশট দেখে ভরসা করা ঠিক নয়।

গুজব চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো খবরের প্রকাশের তারিখ দেখা।

 ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা স্থগিতের খবর প্রতিনিয়ত নতুন করে ছড়ানো হয়, এবং অনেক সময় ওয়েবসাইটে আজকের তারিখ দেখা যায়। ফলে পুরনো খবরকে নতুন মনে হয়।

সৌদিতে থাকা স্বজনদের জন্য ইকামা ও ভিসার মেয়াদ

সৌদিতে থাকা যেসব প্রবাসীর ইকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। 

রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ইকামা মেয়াদোত্তীর্ণ বা “হুরুব” অবস্থায় থাকা প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে ফাইনাল এক্সিট সহায়তার আবেদনের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ আছে।

নির্ধারিত সময়ে দেশ না ছাড়লে পরে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে দূতাবাস মার্চ ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করেছিল। 

তাই দূতাবাসের অফিসিয়াল নোটিশ নিয়মিত দেখে নেওয়া উচিত।

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ আপডেট থাকার সেরা উপায়

ভিসা নীতি বদলাতে সময় লাগে না। তাই শুধু একটি লেখার ওপর নির্ভর না করে অফিসিয়াল সূত্রগুলো নিয়মিত দেখুন।

  • সৌদি সরকারের ই-ভিসা প্ল্যাটফর্ম (ksavisa.sa)
  • বিএমইটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (bmet.gov.bd)
  • রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়েবসাইট (bangladeshembassy.org.sa)
  • মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতা (travel.state.gov)
  • আপনার এয়ারলাইনের সর্বশেষ নোটিশ

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ প্রায়জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: সৌদি আরবের ভিসা কি এখন পুরোপুরি বন্ধ?

 উত্তর: না। নির্দিষ্ট কিছু ভিসার ধরনে বিধিনিষেধ ও কড়াকড়ি রয়েছে, কিন্তু সৌদি আরব সব ভিসা বন্ধ করেছে, এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা পাইনি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশি পাসপোর্টে কি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা পাওয়া যায়?

 উত্তর: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের জন্য এক বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা স্থগিত। একবার প্রবেশের ভিসা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: সৌদি ওয়ার্ক ভিসা কি বন্ধ?

 উত্তর: বন্ধ নয়। তবে ২০২৬ সালে ভুয়া চাহিদাপত্রের কারণে যাচাই কড়া হয়েছে এবং অনেক আবেদন বাতিল হয়েছে।

প্রশ্ন: আমেরিকার গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিরা কি সৌদি ই-ভিসা পাবেন?

 উত্তর: সাধারণত পান, তবে শর্ত বদলাতে পারে। আবেদনের আগে অফিসিয়াল ই-ভিসা প্ল্যাটফর্মে যোগ্যতা যাচাই করুন।

প্রশ্ন: ই-ভিসায় কি উমরাহ করা যায়?

 উত্তর: হ্যাঁ, ই-ভিসাধারীরা উমরাহ করতে পারেন। তবে নুসুক প্ল্যাটফর্মে পারমিট নেওয়া ও নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

প্রশ্ন: এখন কি সৌদি আরবে ভ্রমণ নিরাপদ? 

উত্তর: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবের জন্য লেভেল ৩ সতর্কতা বহাল রেখেছে। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ সতর্কতা দেখে ঝুঁকি বিবেচনা করুন।

প্রশ্ন: ভিসা বাতিল হলে দেওয়া টাকা কীভাবে ফেরত পাব? 

উত্তর: রসিদ ও লিখিত চুক্তি থাকলে বিএমইটি বা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে অভিযোগ জানানো সহজ হয়। ফেরতের নিশ্চয়তা নির্ভর করে এজেন্সি ও চুক্তির শর্তের ওপর।

প্রশ্ন: নিয়ম কি আবার বদলাতে পারে?

 উত্তর: হ্যাঁ। অতীতে হজ মৌসুম শেষে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে কী হবে তা নিশ্চিত নয়।

সৌদি আরব ভিসা কি বন্ধ শেষ কথা

সৌদি আরবের ভিসা বন্ধ, এই কথাটা আংশিক সত্য মাত্র। মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা স্থগিত, ওয়ার্ক ভিসায় কড়াকড়ি বেড়েছে, আর আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণেও অনিশ্চয়তা আছে।

 কিন্তু সব ভিসা বন্ধ হয়ে যায়নি।

আমেরিকা প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে কাজের পরামর্শ হলো, গুজবে কান না দিয়ে অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করা, 

বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার আগে সব কাগজ মিলিয়ে দেখা, আর ভ্রমণের আগে ঝুঁকি বুঝে নেওয়া।

এই লেখা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা এলে নিয়ম বদলে যেতে পারে।

বাংলাদেশের সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার সময়সূচী এবং ফলাফল সবার আগে জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন ওয়েবসাইট aijobbd.com অথবা aijobsbd.com।

একটি মন্তব্য লিখুন